সারাদেশে হাতবোমা তৈরি ও সরবরাহের গোপন নেটওয়ার্ক, নির্বাচনে বিশৃঙ্খলার শঙ্কা! - দৈনিক রূপান্তর Dainik Rupantor

সংবাদ শিরোনাম

“দৈনিক রূপান্তর – সত্যের পথে পরিবর্তনের অঙ্গীকার”

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Wednesday, February 4, 2026

সারাদেশে হাতবোমা তৈরি ও সরবরাহের গোপন নেটওয়ার্ক, নির্বাচনে বিশৃঙ্খলার শঙ্কা!

 


আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানের পরও অপরাধীদের দৌরাত্ম্য থেমে নেই। সারাদেশে হাতবোমা তৈরি ও সরবরাহের গোপন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে তারা, যেখানে কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এসব হাতবোমা বিশেষ ব্যবস্থায় কখনো সড়ক পথে, কখনো নদীপথে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় পাঠানো হচ্ছে। জেলা পর্যায়ে কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও বোমা তৈরি করাতে ভাড়াও খাটেন অনেকে।

দেশব্যাপী নাশকতাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য সাঁড়াশি অভিযান চলছে। প্রতিদিনই গ্রেফতার হচ্ছে ছোট-বড় চক্র ও একাধিক অপরাধী। তবে হাতবোমা তৈরি নেটওয়ার্কের একজন কর্মী সময় সংবাদকে জানান, কঠোর নজরদারির পরও স্থানীয় বাজার থেকে হাতবোমা তৈরির নানা উপকরণ ও রাসায়নিক সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এই কারিগর আরও জানান, আধিপত্য বিস্তার ও প্রতিপক্ষকে ভয় দেখাতে হালকা ও বিধ্বংসী দুই ধরনের হাতবোমা বানানো হয়। বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীরা উপলক্ষ্য অনুযায়ী এগুলো সংগ্রহ করেন। অনেক কারিগর রয়েছে এবং নেতারা প্রয়োজনমতো এগুলো ব্যবহার করেন।
 
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব নেটওয়ার্ক নিষ্ক্রিয় না হলে আসন্ন নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করবে দুষ্কৃতিকারীরা। এছাড়া খোলা বাজারে কেমিক্যাল বিক্রি নিয়ন্ত্রণ করাও জরুরি।
 
অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, যখন অপরাধীরা দেখবে তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে, তখন অন্যরা অপরাধ থেকে বিরত থাকবে।
 
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) ড. মনিরুল ইসলাম আখন্দ বলেন, গোয়েন্দা কার্যক্রম বাড়াতে হবে এবং নাগরিক হিসেবে সবাইকে সজাগ থাকা প্রয়োজন। যারা এসব আইটেম বিক্রি করে তাদের উপর যদি নিয়ন্ত্রণ থাকে, তবে এটা অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
 
সম্প্রতি দেশের কয়েকটি জেলায় হাতবোমা উদ্ধার ও বিস্ফোরণের ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নাশকতা ঠেকাতে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
 
এন্টি টেরোরিজম ইউনিটের (এটিইউ) উপ পুলিশ কমিশনার মো. মাহবুবুর রহমান রাসেল বলেন, এ বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সবসময় খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, সার্বক্ষণিকভাবে গোয়েন্দা নজরদারি চলছে। তথ্য সংগ্রহের পর প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 
দেশে নাশকতাকারীদের রুখতে শুধু নিরাপত্তা বাহিনী নয়, রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছাও প্রয়োজন বলেও মনে করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad